ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু।
গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান হামলা চালিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেই ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল মূলত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ধ্বংস করা।
কিন্তু ২০২৬ সালের এই বসন্তে মার্কিন ও ইসরায়েলি রণকৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এবারের যৌথ হামলার নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
এবারের অভিযানের লক্ষ্য কেবল পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা নয়, বরং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে পঙ্গু করে সেখানে মার্কিন সমর্থিত পুতুল সরকার বসানো মূল লক্ষ্য।
সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, আজকের হামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তেহরানের অভিজাত ‘পাস্তুর’ জেলা। এই এলাকাটি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। যেখানে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শীর্ষ নেতাদের বাসভবন অবস্থিত।
এছাড়া ইরানের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম ইরানের প্রায় ১০টিরও বেশি শহরে একযোগে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে আজকের অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েল এবার আগে ইরানের ‘পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা’ বা ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ধ্বংস করতে চাইছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, আগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করলে ইরান আর পাল্টা হুমকি দিতে পারবে না, যা পরবর্তী ধাপে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পথ সুগম করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা হয়তো ‘‘এক বা দুজন’’ কমান্ডারকে হারিয়েছি। এই হামলা ‘সম্পূর্ণ উসকানিমূলক ও অবৈধ’। তবে তেহরান উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করতে পারে।
ইরানের ওপর ইসরায়েলের আজকের হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে যে সিরিজ হামলা চালিয়েছে, তাতে এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
মোহাম্মদ পাকপুর আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং আমির নাসিরজাদেহ দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম নীতিনির্ধারক ছিলেন। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
এ ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার মৃত্যু হলো। এ ঘটনা দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তাকাঠামোর জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
তবে হামলার সময় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে ছিলেন না। ইরানি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, নিরাপত্তার খাতিরে তাঁকে আগেই একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
