ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ৩ জাতি হঠাৎ করেই কেন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল?
কখনো ভেবে দেখেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ৩ জাতি হঠাৎ করেই কেন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল?
আদ, সামুদ কিংবা দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ফেরাউন, তাদের তো ক্ষমতা, সম্পদ আর প্রযুক্তির কোনো অভাব ছিল না, তাহলে পতনের আসল কারণটা কোথায় ছিল?
সম্প্রতি সাইকোলজিস্ট ইয়াহিয়া আমিন সূরা ফাজরের আয়াতের আলোকে মানুষের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য এবং আধুনিক হাইপার-ক্যাপিটালিজমের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন, যা আমাদের আজকের জীবনকেও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
১. সব সময় কষ্টই পরীক্ষা না,
আমরা সাধারণত মনে করি অভাব, দুঃখ বা বিপদই আল্লাহর পরীক্ষা, কিন্তু সূরা ফাজরের ১৫ নম্বর আয়াত আমাদের ভিন্ন শিক্ষা দেয়। যখন আল্লাহ কাউকে সম্পদ, সম্মান, পদমর্যাদা বা ক্ষমতা দেন, সেটাও একটি পরীক্ষা।
সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ ভাবতে শুরু করে, আমি যোগ্য বলেই সফল, সবকিছু আমার পরিশ্রমের ফল। এই আমি-কেন্দ্রিক চিন্তাই অহংকারের সূচনা, আর পতনের প্রথম ধাপ।
২. রিজিক কমলেই কি অপমান,
সূরা ফাজরের ১৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন মানুষের রিজিক সীমিত করা হয়, তখন সে অভিযোগ করে বসে, আল্লাহ আমাকে অপমান করেছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, তার প্রয়োজনীয় রিজিক ঠিকই দেওয়া হয়েছে।
আমরা অনেক সময় নিজের পরিচয়কে চরিত্র বা ঈমান দিয়ে নয়, বরং স্ট্যাটাস আর বাহ্যিক সফলতা দিয়ে মাপি, এই মানসিকতাই ছিল ইবলিশের অহংকারের মূল।
৩. আদ, সামুদ ও ফেরাউনের একই ভুল,
ইতিহাসে ধ্বংস হওয়া জাতিগুলোর সবচেয়ে বড় রোগ ছিল অহংকার। তারা বিশ্বাস করত, ক্ষমতা তাদের নিজের, নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই।
আজকের সমাজও অজান্তেই একই শিক্ষা দেয়, গরিব হওয়া মানে তুমি ব্যর্থ। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, পরিশ্রম করার শক্তি, সুযোগ এবং রিজিক, সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ।
৪. হজ আমাদের কী শেখায়,
হজের ইহরামের কাপড়ে নেই কোনো ব্র্যান্ড, নেই কোনো স্ট্যাটাস, নেই ধনী-গরিবের পার্থক্য, সেখানে সবাই সমান, শুধু একজন বান্দা।
অথচ আজ আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার ফিল্টার, দামী গাড়ি, ব্র্যান্ডেড জীবন আর বাহ্যিক পরিচয়ের আড়ালে নিজের আসল পরিচয়, তাকওয়া, হারিয়ে ফেলছি।
আপনার পদবী, ভিজিটিং কার্ড বা ব্যাংক ব্যালেন্স আপনার প্রকৃত পরিচয় নয়।
আপনার সততা, বিনয় এবং আল্লাহভীতি, এগুলোই আপনার আসল সম্পদ।
ইতিহাস প্রমাণ করে, জাতিকে ধ্বংস করে দারিদ্র্য নয়, ধ্বংস করে অহংকার।
আল্লাহ আমাদের অন্তরের সেই অদৃশ্য রোগ থেকে রক্ষা করুন, যে রোগ একসময় শক্তিশালী সভ্যতাগুলোকেও ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।
