আমি তো চাইনি দুনিয়াতে আসতে।

“আমি তো চাইনি দুনিয়াতে আসতে। তাহলে কেন আমাকে এই জীবন দেওয়া হলো? কেন এই পরীক্ষা?”

বিষয়টা সহজভাবে ভাবলে এমন দাঁড়ায়। আমরা জন্ম নেওয়ার আগে তো আমাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। তখন তো আমরা ছিলামই না যে আমাদের জিজ্ঞেস করা হবে, “তুমি কি দুনিয়াতে যেতে চাও?” 

যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেমন একজন কারিগর কোনো জিনিস বানানোর আগে সেই জিনিসের অনুমতি নেয় না। কারণ জিনিসটা তখনো তৈরি হয়নি।

এখন প্রশ্ন আসে, তাহলে কি আমাদের জোর করে পরীক্ষায় বসানো হয়েছে? বিষয়টা আসলে এভাবে না। দুনিয়ার জীবনকে পরীক্ষা বলা হয় কারণ এখানে আমরা যা করি, যা বেছে নিই, তার ফল আছে। আমাদেরকে ভালো–মন্দ বোঝার শক্তি দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাইলে সত্যের পথে চলতে পারি, চাইলে উল্টোটাও করতে পারি। এই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলেই এটাকে পরীক্ষা বলা হয়।

কেউ যদি বলে, “আমি কোনো পুরস্কার চাই না, শাস্তিও চাই না”, তবুও মানুষ হিসেবে সে প্রতিদিন কিছু না কিছু বেছে নিচ্ছে। সে সত্য বলবে না মিথ্যা বলবে, অন্যের উপকার করবে না ক্ষতি করবে, অন্যায় দেখলে চুপ থাকবে না প্রতিবাদ করবে। জীবন কাউকে নিরপেক্ষ থাকতে দেয় না। তাই চাইলেই পরীক্ষার বাইরে থাকা যায় না। বেঁচে থাকাটাই এক ধরনের দায়িত্ব।

আরেকটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হবে না। একজন মানুষ যতটুকু বুঝেছে, যতটুকু জেনেছে, যতটুকু সুযোগ পেয়েছে, তার হিসাব সেভাবেই হবে। কেউ যদি সত্য পরিষ্কারভাবে না পায়, যদি তার সামনে ঠিকমতো বোঝানোই না হয়, তাহলে তার বিচারও হবে তার বুঝ অনুযায়ী। আল্লাহ্‌ শ্রেষ্ঠ ন্যায় বিচারক। 

আমরা আসলে এই জীবনটা নিজের চেষ্টায় পাইনি। এটা আমাদের দেওয়া হয়েছে। যিনি দিয়েছেন, তিনিই এর উদ্দেশ্য ঠিক করেছেন। কিন্তু তিনি জালেম নন। তিনি অন্যায় করেন না। তিনি মানুষের কষ্ট, দুর্বলতা, অক্ষমতা সব জানেন।

তাই প্রশ্ন করা ভুল না। কষ্ট থেকে এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। কিন্তু পুরো ছবিটা দেখলে বোঝা যায়, এটা শুধু শাস্তির ভয় দেখিয়ে রাখা কোনো ব্যাপার না। এটা মানুষকে মর্যাদা দিয়ে, ইচ্ছা দিয়ে, ভালো-মন্দ বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে তৈরি একটা জীবন। আর শেষে বিচারও হবে ন্যায়ভাবে।


কুরআনে দুইটা কথা বলা হয়েছে।

এক জায়গায় বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল, হ্যাঁ। এর মানে হলো মানুষকে এমন স্বভাব দিয়ে বানানো হয়েছে, সে বুঝে তার একজন স্রষ্টা আছে। এটা এমন না যে দুনিয়ায় আসার আগে বসে আলাদা কোনো সভা হয়েছিল।

আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, এক বড় আমানত বা দায়িত্ব আসমান, জমিন আর পাহাড়ের সামনে রাখা হয়েছিল। তারা ভয় পেয়েছিল, মানুষ তা নিয়েছে। এখানে দায়িত্ব মানে ভালো মন্দ বুঝে নিজের ইচ্ছায় চলার ক্ষমতা। এটা বোঝানোর জন্য উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

কিছু বর্ণনায় আছে মানুষ এই দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছিল। তবে এমন স্পষ্ট সহিহ হাদিস নেই যেখানে বলা আছে আমরা বসে স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, হ্যাঁ আমরা পরীক্ষা দেব। বরং মানুষকে এমনভাবে বানানো হয়েছে যে সে দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url