আমি যখন থেকে প্রতিরাতে সূরা আল-ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াত শুরু করলাম!

আমি যখন থেকে প্রতিরাতে সূরা আল-ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াত শুরু করলাম, শুরুতে ভাবতাম—এটা বুঝি সম্পদের জন্য। মনে হতো, হঠাৎ করে অনেক টাকা আসবে, রাতারাতি সফলতা মিলবে, জীবনে কোনো বড় পরিবর্তন ঘটে যাবে। কিন্তু এরপর যা হলো… তা আমাকে নীরব করে দিয়েছে।

আমি হঠাৎ ধনী হয়ে যাইনি। ঘুম থেকে উঠে টাকার পাহাড় দেখিনি, কিংবা কোনো তাৎক্ষণিক সাফল্যও আসেনি। বরং এর চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান কিছু ঘটেছে। আমি টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করে দিয়েছি। বিল, ডেডলাইন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অকারণ ভয়—সব ধীরে ধীরে কমে গেছে। অন্যদের তথাকথিত “সাফল্য”র সঙ্গে নিজেকে তুলনা করাও ছেড়ে দিয়েছি। আমি শান্তিতে ঘুমাতে শুরু করেছি। আমার হৃদয় হালকা হয়ে এসেছে।

প্রতিটি সকাল শুরু হয় এক অচেনা প্রশান্তি নিয়ে। চ্যালেঞ্জ আসলেও এখন আমি তা মোকাবিলা করি দৃঢ় বিশ্বাস, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা নিয়ে। তখনই আমি বুঝেছি— বারাকাহ আসলে কী। এটা সবসময় বস্তুগত লাভ নয়। অনেক সময় সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো— আল্লাহ যা দেন আমাদের হৃদয়কে: শান্তি, সন্তুষ্টি আর নির্ভরতা। তাই আজ রাতে যখন তুমি সূরা আল-ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াত করবে— করো তোমার হৃদয়ের জন্য। করো সেই শান্তির জন্য, যেটার পেছনে তুমি ছুটছো। করো সেই ভরসার জন্য, যা অনিশ্চয়তার পথে তোমাকে বহন করবে। নিয়ত নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে, আশার সাথে তিলাওয়াত করো।

আর দেখো— কীভাবে ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তাগুলোকে তোমার হৃদয়ের বারাকাহতে রূপান্তর করে দেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url