ইরান আমেরিকা যুদ্ধ আজকের খবর!

ইরান-আমেরিকা সংঘাত: খামেনির মৃত্যু থেকে শুরু করে আজকের যুদ্ধের ছবি

আজ সকালে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে খবর চেক করতেই চোখ কপালে উঠে গেল। ইরান আর আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের খবর তো অনেকদিন ধরেই শুনছি, কিন্তু এবার তো সত্যি সত্যি বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে US-ইসরায়েলের আক্রমণ, আর আজ মার্চ ১, ২০২৬-এ এসে দেখছি ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মারা গেছেন। এটা তো শুধু খবর নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ম্যাপটাই বদলে দিতে পারে। আমি একটা সাধারণ মানুষ হিসেবে এসব দেখে ভয় পাই, কারণ যুদ্ধ মানে তো শুধু সৈন্যদের মৃত্যু নয়, সাধারণ লোকের জীবনও উল্টে যায়। চলুন, আজকের সর্বশেষ আপডেটগুলো একটু বিস্তারিত বলি, আর আমার কিছু চিন্তাভাবনা শেয়ার করি।


প্রথমেই বলি, গতকাল শনিবার US আর ইসরায়েল মিলে ইরানে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। এতে খামেনির মৃত্যু হয়েছে, যা ইরানের জন্য ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা। CNBC-এর রিপোর্ট অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে এই অপারেশন "আগে থেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে চলছে"। ট্রাম্প CNBC-এর জো কার্নেনকে বলেছেন এ কথা, আর এরপর থেকে ইরানের পালটা আক্রমণ শুরু হয়েছে। আমি ভাবছি, ট্রাম্পের এই কথায় কি একটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ছে? যুদ্ধ তো এমনিতেই অনিশ্চিত, তার ওপর এমন কথা বললে তো আরও উত্তেজনা বাড়বে।


আজ সকালে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ দেখলাম, ইরানের পালটা আক্রমণে তিনজন আমেরিকান সৈন্য মারা গেছে। এটা ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় প্রথম আমেরিকানদের মৃত্যু এই যুদ্ধে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে এরা ইরানের আক্রমণে মারা গেছে, আর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন আক্রমণ-পালটা আক্রমণ চলছে। CBS News-এও একই খবর, যেখানে বলা হয়েছে ইরান মিসাইল ছুড়েছে বিভিন্ন দেশ আর জাহাজের ওপর। আমার মনে হয়, এই মৃত্যুর খবর শুনে আমেরিকায় অনেকে প্রশ্ন তুলবে যে এই যুদ্ধের দরকার কী ছিল? ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম নিয়ে তো আলোচনা চলছিল, কিন্তু হঠাৎ এমন আক্রমণ কেন?


ইরানের দিক থেকে দেখলে, খামেনির মৃত্যুর পর দেশটা এখন একটা লিডারশিপ কাউন্সিলের হাতে চলছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, জুডিশিয়ারি চিফ আর গার্ডিয়ানস কাউন্সিলের একজন সদস্য মিলে সাময়িকভাবে দায়িত্ব নিয়েছে। Reuters-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েল আজ আবার তেহরানে আক্রমণ চালিয়েছে, আর US একটা ইরানি জাহাজ ডুবিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বলছে তারা US-এর অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ারে চারটা ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। এসব শুনে আমার মনে হয়, এই যুদ্ধ আরও লম্বা হতে পারে, কারণ দুই পক্ষই পিছু হটছে না।


মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও খবর আসছে। Al Jazeera-এর লাইভ ট্র্যাকারে বলা হয়েছে, ইরানে ২০১ জন মারা গেছে আর ৭৪৭ জন আহত, ইসরায়েলে ৯ জন মারা গেছে আর ১২১ জন আহত। এছাড়া UAE আর অন্যান্য জায়গায়ও আক্রমণ চলছে, যা The Guardian-এ বিস্তারিত আছে। ট্রাম্প ফক্স নিউজে বলেছেন যে ৪৮ জন ইরানি লিডার মারা গেছে এই আক্রমণে। এসব সংখ্যা দেখে আমি ভাবি, যুদ্ধের শেষ কোথায়? সাধারণ মানুষেরা তো শুধু ভুগছে।


এখন একটা আশার কথা হলো, AP News-এ বলা হয়েছে যে ইরানের নতুন লিডারশিপ US-এর সাথে আলোচনায় আগ্রহী। একটা হোয়াইট হাউস অফিসিয়াল বলেছেন যে ট্রাম্পও শেষ পর্যন্ত আলোচনায় রাজি হতে পারেন। কিন্তু Chatham House-এর একটা আর্টিকেলে বলা হয়েছে যে এই আক্রমণগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করছে, আর এটা অন্য দেশগুলোর জন্য খারাপ উদাহরণ। আমি সম্মত, কারণ যুদ্ধ তো শুধু ধ্বংস নিয়ে আসে, শান্তি নয়।


শেষ কথা হিসেবে বলব, এই সংঘাত দেখে আমার মনে হয় বিশ্বের লিডারদের আরও সংযমী হওয়া দরকার। আমরা বাংলাদেশ থেকে দেখছি, কিন্তু এর প্রভাব তেলের দাম বাড়িয়ে আমাদের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। আপনাদের কী মনে হয়? কমেন্টে জানান। আর খবরগুলো আপডেট হলে আমি আবার লিখব। স্টে সেফ সবাই!

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url