নবীবি তিনবার জান্নাতি বলেছিলেন!
কল্পনা করুন, আপনি মসজিদে নববীতে বসে আছেন আর স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.) হুট করে দরজার দিকে ইশারা করে বললেন— "এখন তোমাদের সামনে যে ব্যক্তিটি আসবে, সে একজন জান্নাতি!"
একদিন নয়, দুই দিন নয়, টানা তিনদিন একই কথা! সাহাবায়ে কেরাম তো অবাক! কে এই ব্যক্তি? নিশ্চয়ই তিনি সারা রাত জেগে নামাজ পড়েন, নয়তো সারাবছর রোজা রাখেন?
তদন্তে নামলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.):
রহস্য উদঘাটন করতে তিনি ওই সাহাবীর মেহমান হলেন। টানা তিন রাত তাঁর সাথে কাটালেন। কিন্তু অবাক কাণ্ড! তিনি দেখলেন ওই ব্যক্তি তো আহামরি কোনো নফল ইবাদত করছেন না। না আছে সারারাত জেগে কান্নাকাটি, না আছে পাহাড় সমান দান-খয়রাত।
হতাশ হয়ে আবদুল্লাহ (রা.) শেষমেশ জিজ্ঞেসই করে ফেললেন— "ভাই, নবীজি (সা.) আপনাকে জান্নাতি বলেছেন, কিন্তু আপনার মধ্যে তো বিশেষ কিছু দেখছি না! রহস্যটা কী?"
সেই চমকে দেওয়া উত্তর:
ওই সাহাবী মুচকি হেসে বললেন— "ভাই, আপনি যা দেখেছেন আমল সেটুকুই। তবে হ্যাঁ, একটা বিশেষ কাজ আমি করি— প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আমি আমার অন্তরকে পরিষ্কার করি। কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রতি আমি মনের ভেতর কোনো হিংসা, বিদ্বেষ বা ক্ষোভ রাখি না। যারা আমার ক্ষতি করেছে, সবাইকে আমি আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিয়ে তবেই চোখ বুজি।"
শুনে আবদুল্লাহ (রা.) স্তব্ধ হয়ে গেলেন! তিনি বুঝলেন, কপালে নামাজের চিহ্ন রাখা যতটা সহজ, ভেতর থেকে 'হিংসা' দূর করা তার চেয়েও কঠিন। আর এই স্বচ্ছ অন্তরের কারণেই তিনি বেঁচে থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন।
কেন এটি আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করবেন?
আজকের যুগে আমাদের ডিপ্রেশন আর মানসিক অশান্তির বড় কারণ হলো মানুষের প্রতি ঘৃণা আর অভিযোগ পুষে রাখা। আমরা শরীর পরিষ্কার করি দামী সাবানে, কিন্তু মন পরিষ্কার করতে ভুলে যাই।
শিক্ষা: আপনি যদি জান্নাতে যেতে চান, তবে শুধু জায়নামাজে পড়ে থাকলে হবে না, মনটাকেও আয়নার মতো স্বচ্ছ করতে হবে। আজ রাত থেকে আপনিও কি পারবেন সবাইকে মাফ করে ঘুমাতে?
